৩ য় পাঠ

এপ্রিল ৯-১৫

কয়িন ও তার অপরাধ

শাব্বাথ অপরাহ্ণ

এপ্রিল ৯

শাস্ত্রপাঠ:আদি ৪:১-৫; ইব্রীয় ১১:৪; ১ যোহন ৩:১২; আদি ৪:৯-২৭ ।

মুখস্থপদ: “যদি সদাচরণ কর, তবে কি গ্রাহ্য হইবে না? আর যদি সদাচরণ না কর, তবে পাপ দ্বারে গুঁড়ি মারিয়া রহিয়াছে । তোমার প্রতি তাহার বাসনা থাকিবে, এবং তুমি তাহার উপরে কর্তৃত্ব করিবে” (আদি ৪:৭) ।

আদি ৪ অধ্যায়ে আমরা কি বিষয়ে পাই? আমরা বেশিরভাগ সেই সব লোকদের বিষয়ে পাই যারা জন্মেছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন । জন্ম ও মৃত্যুর এই ঘটনাগুলো আমাদেরকে দেখায় যে, আদি ৩ অধ্যায়ে বর্ণীত ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলো ফলতে শুরু করেছে । আপনি যদি আদি ৩ ও ৪ অধ্যায়ের মধ্যে তুলনা করেন, আপনি ধারণার ও অনেক শব্দের মিল পাবেন । উভয় অধ্যায় পাপ সম্পর্কে বলে (আদি ৩:৬-৮; তুলনা করুন, আদি ৪:৮) । উভয় অধ্যায় ভূমি থেকে আসা অভিশাপগুলো নিয়ে কথা বলে (আদি ৩:১৭; তুলনা করুন, আদি ৪:১১) । আমরা সেই সব লোকদের বিষয়ে পাই যাদেরকে গৃহ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল (আদি ৩:২৪; তুলনা করুন, আদি ৪:১২, ১৬) ।

আদম এদন উদ্যান ত্যাগ করার পর পিতা হন । কয়িনের জন্ম আদমকে আশা দেয় । হবা বিশ্বাস করেন যে, কয়িন হচ্ছেন সেই প্রতিজ্ঞাত ত্রাণকর্তা (আদি ৩:১৫) ।

অতঃপর, আমরা কয়িনের মারাত্মক অপরাধের বিষয় জানি । পরে, আমরা লেমকের অপরাধের বিষয়ে জানি । আমরা আরও জানতে পাই যে, মানুষের আয়ু কিভাবে সংক্ষিপ্ত হল । আমরা জানতে পাই যে, পৃথিবী কিভাবে মন্দতায় পূর্ণ হল । এ – সব বিষয়গুলো হচ্ছে আদি ৩ অধ্যায়ে ঘোষিত অভিশাপের অংশবিশেষ । হ্যাঁ, আদি ৪ অধ্যায়ে অনেক মন্দ ঘটনা ঘটছে । কিন্তু মানুষের সব আশা শেষ হয়ে (হারিয়ে) যায়নি ।

রবিবার

এপ্রিল ১০

কয়িন ও হেবল (আদি ৪:১, 2)

আদি ৪:১, ২ পদ পড়ুন । এই পদগুলো থেকে আমরা এই দুই ভাইয়ের জন্মের বিষয়ে কি শিক্ষা পাই?

ঈশ্বর আদম ও হবাকে এদন থেকে তাড়িয়ে দেবার পর আমরা প্রথমে কোন্ বিষয়টি পড়ি? আদম ও হবার একজন পুত্র সন্তান হয় । হবা ঘোষণা করেন, “সদাপ্রভুর সহায়তায় আমি নরলাভ করিলাম” (আদি ৪:১) । কে এই প্রতিজ্ঞাত নর? তিনি হলেন ত্রাণকর্তা যিনি পাপ থেকে মানুষকে উদ্ধার করবেন (আদি ৩:১৫) । আদি ৪:১ পদে ব্যবহৃত ‘সদাপ্রভু’ শব্দটি ‘নরলাভ’ শব্দের সঙ্গে কযুক্ত । তাহলে, হবা আসলে যা বলছেন তা কি এই, ‘আমি নরলাভ করলাম, হ্যাঁ, (ইনি) স্বয়ং সদাপ্রভু ।’ বাইবেলের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাণ্ডার্ড সংস্করণ আমাদেরকে বাইবেলের এই সত্যটি এভাবে দেখাচ্ছে:’আমি একজন পুত্র সন্তানের, সদাপ্রভুর, জন্ম দিলাম । ‘

হবা তার কথায় আমাদের দেখাচ্ছেন যে, তিনি আদি ৩:১৫ পদে বর্ণীত ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাটি স্মরণ করছেন । হবা বিশ্বাস করেন যে, তিনি ত্রাণকর্তার, সদাপ্রভুর, জন্ম দিয়েছেন:“ ঈশ্বর আদম ও হবাকে ভবিষ্যত ত্রাণকর্তার বিষয় বলেন । আদম ও হৰা যখন প্রতিজ্ঞাটির বিষয়ে প্রথমবারের মত জানেন, তারা আশা করেছিলেন যে, ঈশ্বর ত্রাণকর্তাকে তৎক্ষণাৎ প্রেরণ করবেন । তাই, আদম ও হবা ছেলে শিশুটিকে পেয়ে খুব খুশি হলেন । তারা আশা করলেন যে, তাদের পুত্রটি প্রতিজ্ঞাত ত্রাণকর্তা হবেন ।” —ঈলেন জি হোয়াইট, দি ডিজায়ার অব্ এজেস, পৃষ্ঠা:৩১ ।

‘কয়িন’ নামটি ইব্রীয় শব্দ’ কানাহ্’ থেকে এসেছে । ইব্রীয় ভাষায় ‘কানাহ্’ মানে হল ‘প্রাপ্তি ।’ ‘ কানাহ্’ আমাদের দেখায় যে, আদম ও হবা ঈশ্বর হতে দামী ও শক্তিমান কাউকে / কিছু পেয়েছেন । ‘হেবল’ নামের ইব্রীয় শব্দ হচ্ছে ‘হেবেল ।’ ‘হেবল’ শব্দটিকে বাংলায় ‘বাষ্পমাত্র’ (গীত ৬২:৯) কিংবা ‘নিশ্বাস’ (গীত ১৪৪:৪) হিসেবেও লেখা যায় ।’ হেবেল’ কথাটি আমাদের এমন কিছু দেখায় যা আমরা ধরে রাখতে পারি না কিংবা অর্জন করতে পারি না । “অসারের অসার,’ ‘ অসারের অসার, সকলই ‘অসার” (উপদেশক ১:২) বোঝাতে শলোমন এই ‘হেবেল’ শব্দটি বারবার ব্যবহার করেছেন । আদম ও হবা কেন তাদের দ্বিতীয় সন্তানের নাম হেবল রাখলেন, সে – ব্যাপারে আমরা কোন ভুল ধারণা অনুমান করতে চাই না । একই সঙ্গে, নামগুলো আমাদের দেখায়, আদম ও হবা বিশ্বাস করেন যে, তার ভাই নন বরং স্বয়ং কয়িন হচ্ছে প্রতিজ্ঞাত ত্রাণকর্তা ।

জীবনের কোন্ বিষয়গুলো ‘হেবেল?অর্থাৎ, এই জীবনের কোন বিষয়গুলো অসার? এই প্রশ্নের উত্তর জানা আমাদের জন্য জরুরী কেন?

সোমবার

এপ্রিল ১১

দুটি যজ্ঞবেদি (আদি ৪:১-৫)

নিঃসন্দেহে, কয়িন ও হেবলের নাম আমাদের দেখায় যে, তারা একজন অন্যজন অপেক্ষা আলাদ ছিলেন । তারা তাদের পেশায়ও যে কতটা আলাদা ছিলেন তা আমরা জানি । “হেবল মেষপালক ছিল, ও কয়িন ভূমিকৰ্ষক ছিল” (আদি ৪:২) । ফসল ফলানোর জন্য, একজন কৃষক হিসেবে, কয়িনের প্রচুর দৈহিক শক্তির প্রয়োজন ছিল । একজন মেষপালক হিসেবে হেবল দেখিয়েছেন যে, পশুপালের প্রতি তার কোমল ও প্রেমপূর্ণ একটি আত্মা / মন ছিল ।

কয়িন ফল (ফসল) ফলাত । হেবল মেষদের পরিচর্যা করতেন । দুই ভাইয়ের এই পেশা আমাদের কিভাবে দেখায় যে, তারা কেন ঈশ্বরের কাছে আলাদা উপহার এনেছিলেন । দুই ভাইয়ের আনা এই উপহার আমাদেরকে তাদের মনের মধ্যকার আলাদা উপলব্ধি / অনুভূতি দেখিয়ে থাকে । কয়িনের আনা উপহার আমাদের দেখায় যে, ফসল ফলানোর জন্য সে কঠোর পরিশ্রম করে । হেবল ঈশ্বর প্রদত্ত মেষগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে যত্নশীল ।

ঈশ্বর কেন হেবলের উপহার গ্রাহ্য করলেন এবং করিনের উপহার অগ্রাহ্য করলেন? উত্তরের জন্য আদি ৪:১-৫ ও ইব্রীয় ১১:৪ পদ পড়ুন ।

“ রক্ত উৎসর্গ ব্যতীত ঈশ্বর পাপ ক্ষমা করতে পারেন না । কয়িন ও হেবলকে অবশ্যই যীশুর রক্তে বিশ্বাস করতে হবে । যীশু ভবিষ্যতে তাদের পাপের মূল্য দিবেন । তাই, কয়িন ও হেবলকে অবশ্যই তাদের পশুপাল থেকে পশুবলি দিতে হবে । তাদেরকে অবশ্যই প্রথমজাত মেষশাবক উপহার / বলি দিতে হবে । এছাড়া, ঈশ্বর কয়িন ও হেবলকে কৃতজ্ঞতা / ধন্যবাদের উপহারও আনতে নির্দেশ দিয়েছিলেন । এই উপহার হতে হবে তাদের চয়ন করা প্রথম পরিপক্ক ফসল (অগ্রিমাংশ) । ” –ঈলেন জি হোয়াইট, পেট্রিয়ার্কস অ্যান্ড প্রফেট্স, পৃষ্ঠা:৭১ ।

হেবল ঈশ্বরের বাধ্য হলেন । হেবল ঈশ্বরের কথামত, উদ্ভিদজ ও পশুজ, উভয় উপহার আনলেন । কিন্তু কয়িন আনল না । “কয়িন উপহার রূপে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ভূমির ফল উৎসর্গ করিল” (আদি ৪:৩) । কয়িন ঈশ্বরের বাধ্য হল না । এ ঘটনা আমাদেরকে আমাদের পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে দুটি শিক্ষা দেখায় । হেবলের উপহার আমাদের দেখায় যে, আমরা ঈশ্বরের দয়ায় পরিত্রাণ প্রাপ্ত হই । কয়িনের উপহার আমাদের এই ভ্রান্ত (মিথ্যা) শিক্ষা দেখায় যে, আমরা আমাদের নিজেদের সৎকর্মের দ্বারা পরিত্রাণ লাভ করি ।

কয়িন ও হেবলের উপহার হচ্ছে একটি রূপক যা আমাদের বাইবেলের গভীর সত্যগুলো দেখায় । কিন্তু আমাদের অবশ্যই স্মরণ করতে হবে যে, বাস্তবিক উপহারের নিজস্ব কোন মূল্য / গুণ নেই । ওগুলো ঈশ্বরকে নির্দেশ করে যিনি আমাদের ব্যক্তিগত চাহিদার যত্ন নেন এবং পরিত্রাণ করেন ।

মীখা ৬:৭ এবং যিশাইয় ১:১১ পদ পড়ুন । এই পদগুলোয় আপনি কি গুরুত্বপূর্ণ নীতি দেখতে পান? কিভাবে আমরা আমাদের জীবন ও আরাধনার মাধ্যমে এই নীতি দেখাতে পারি?

মঙ্গলবার

এপ্রিল ১২

অপরাধ (আদি ৪:৩-৮)

আদি ৪:৩-৮ পদে, আমরা কয়িন ও হেবলের দুঃখদায়ক ঘটনা পাই । কি কারণে কয়িন তার ভাইকে হত্যা করল? এই অপরাধ কিভাবে সংঘটিত হল? উত্তরের জন্য আরও পড়ুন, ১ যোহন ৩:১২ ।

ঈশ্বর কয়িন কিংবা তার উপহার গ্রাহ্য করলেন না । “কয়িন অতিশয় ক্রুদ্ধ হইল, তাহার মুখ বিষণ্ন হইল” (আদি ৪:৫) । কয়িন ঈশ্বর ও হেবল উভয়ের উপর রেগে ছিল । উপহার গ্রাহ্য না করার কারণে কয়িন ঈশ্বরের উপর রেগে ছিল । কয়িনের মনে হল যে, ঈশ্বর ন্যায্য নন ।

কয়িন তার ভাইয়ের উপরও ঈর্ষান্বিত ছিল । কয়িন কেন এতটা ঈর্ষান্বিত হল? কারণ, ঈশ্বর হেবলের উপর সহানুভূতিশীল ছিলেন । কিন্তু ঈশ্বর কয়িনের প্রতি তাঁর সহানুভূতি প্রদর্শন করেননি । তাই, কয়িন হতাশ হয় ।

ঈশ্বর কয়িনকে দুটি প্রশ্ন করেন (আদি ৪:৬) । আপনি কি দেখছেন ঈশ্বর কয়িনকে অভিযুক্ত করছেন না? ঈশ্বর কি এ – কারণে প্রশ্ন করছেন যে, তিনি উত্তর জানেন না? মোটেও না ! ঈশ্বর চান কয়িন যেন তার নিজ অন্তঃকরণ দেখে এবং তার মন্দ উপলব্ধির কারণ বোঝে । যেমনিভাবে আমরা এই ঘটনা থেকে দেখি, সদাপ্রভু আমাদের সর্বদা রক্ষা করতে চান, এমনকি যখন আমরা তাঁকে ব্যর্থ করি তখনও । কয়িনকে দুটি প্রশ্ন করার পর, ঈশ্বর কয়িনকে কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন ।

প্রথমে, ঈশ্বর কয়িনকে’ সদাচরণের’ পরামর্শ দিচ্ছেন (আদি ৪:৭) । ঈশ্বর চান কয়িন তার আচরণ পরিবর্তন করুক । ঈশ্বর চান কয়িন তার পাপ থেকে এবং অন্তরের মন্দতা থেকে ফিরুক । কয়িন যদি তার মন্দ পথ থেকে ফেরে এবং যদি সদাচরণ করে, তাহলে ঈশ্বর তার জন্য ক্ষমার প্রতিজ্ঞা করছেন এবং তিনি তাকে মেনে নিবেন । কিন্তু করিন কেবল তখন গ্রাহ্য যদি সে বাধ্য থাকে এবং নিজ অন্তরের মন্দতা দূর করে ।

কয়িন যদি তার আচরণ পরিবর্তন না করে, তাহলে যা হবে, সে বিষয়ে ঈশ্বর কয়িনকে সতর্ক করছেন । “পাপ দ্বারে গুঁড়ি মারিয়া রহিয়াছে । তোমার প্রতি তাহার বাসনা থাকিবে, এবং তুমি তাহার উপরে কর্তৃত্ব করিবে” (আদি ৪:৭) । ঈশ্বর কয়িনকে দেখান যে, তার সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে, তার হৃদয়ে পাপ গভীরভাবে প্রোথিত । আবার, ঈশ্বর কয়িনকে দেখাচ্ছেন যে, তাকে অবশ্যই পরিবর্তিত হতে হবে । দ্বিতীয়ত, ঈশ্বর কয়িনকে বলেন যে, তার আত্মনিয়ন্ত্রণ দরকার । কয়িন যদি নিজেকে দমন না করেন, পাপ তাকে আক্রমণ করবে:“ পাপ দ্বারে গুঁড়ি মারিয়া রহিয়াছে । তোমার প্রতি তাহার বাসনা থাকিবে, এবং তুমি তাহার উপরে কর্তৃত্ব করিবে” (আদি ৪:৭) । সুতরাং, কয়িনকে অবশ্যই তার চিন্তা ও চেতনার উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে । যাকোবও আমাদের সাবধান করছেন যেন আমাদের হৃদয় ও মনের উপরে পাপ দখল না নেয়:“ কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কামনা দ্বারা আকর্ষিত ও প্ররোচিত হইয়া পরীক্ষিত হয়” (যাকোব ১:১৪) । কিন্তু আমাদের আশা আছে । যীশু আমাদের জন্য ক্ষমার প্রতিজ্ঞা করেছেন । আমাদের হৃদয়ে স্থিত পাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হতে তিনি আমাদের সাহায্য করবেন (১ করিন্থীয় ১০:১৩) ।

ঈশ্বর কিভাবে আমাদের মুক্ত করলেন এবং তিনি যে তাঁর প্রতি বাধ্য থাকতে আমাদের জোর করেন না, সে – বিষয়ে কয়িনের এই দুঃখদায়ক ঘটনা আমাদের কি দেখায়?

বুধবার

এপ্রিল ১৩

ঈশ্বর কয়িনকে শাস্তি দেন (আদি ৪:৯-১৬)

আদি ৪:৯-১৬ পদ পড়ুন । ঈশ্বর কয়িনকে প্রশ্ন করেন:“ তোমার ভ্রাতা হেবল কোথায়?” (আদি ৪:৯) । ঈশ্বর কেন কয়িনকে এ – প্রশ্ন করছেন? করিনের পাপ এবং “পৃথিবীতে পলাতক ও ভ্রমণকারী” (আদি ৪:১২) হওয়ার মধ্যে যোগসূত্র কি?

কয়িনকে করা ঈশ্বরের প্রশ্নটি আমাদেরকে সেই প্রশ্নটি স্মরণ করিয়ে দেয়, যে – প্রশ্নটি, আদম পাপ করার পর, ঈশ্বর করেছিলেন:“ তুমি কোথায়?” (আদি ৩:৯) । এই প্রশ্নটি আমাদেরকে আদমের ও কয়িনের পাপের মধ্যকার সম্পর্ক দেখতে সাহায্য করে । সুতরাং, আমরা দেখি যে, আদমের পাপের কারণেই কয়িনের পাপ এসেছিল । কিন্তু কয়িন বিভিন্ন দিক থেকে আদমের থেকে আলাদা ছিল ।

কয়িন পাপের অনুশোচনা অগ্রাহ্য করেছিল । তদুপরি, কয়িন ঈশ্বরকে মিথ্যা বলে । আদম সেটা করেননি । নিঃসন্দেহে, আদম হবাকে দোষ দিয়েছিলেন । কিন্তু আদম নিজের অপরাধ সম্পর্কে মিথ্যা বলেননি । কয়িন ঈশ্বরকে কেবল মিথ্যাই বলেনি, বরং কয়িন ঈশ্বরকে সম্মান দেখাতে আপত্তি করেছিল । ঈশ্বর তাঁর বিচার – কাজে কালক্ষেপণ করেন না । তিনি কয়িনকে তৃতীয় প্রশ্নটি করেন:“ তুমি কি করিয়াছ?” (আদি ৪:১০) । ঈশ্বর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করেননি । ঈশ্বর কয়িনকে দেখান যে, তিনি সব জানেন । ঈশ্বর কয়িনকে বলেন:মার ভাতার রক্ত ভূমি হইতে আমার কাছে ক্রন্দন করিতেছে” (আদি ৪:১০) । নিঃসন্দেহে, রক্ত চেঁচাতে পারে না । এই রূপকটি আমাদের দেখতে সাহায্য করে যে, ঈশ্বর অপরাধটির বিষয়ে জানেন । তিনি এ – জন্য কয়িনকে শাস্তি দিবেন ।

কয়িন ঈশ্বরকে বলেন,তোমার দৃষ্টি হইতে আমি লুক্কায়িত হইব” (আদি ৪:১৪) । এই পদটি আমাদের কি দেখায়?

“ তোমার দৃষ্টি হইতে আমি লুক্কায়িত হইব” (আদি ৪:১৪) — কথাটি একটি রূপক । এটি আমাদের সেই শান্তি দেখাচ্ছে যা কয়িন পাবে । হেবলকে হত্যা করার কারণে কয়িন এ শান্তি পাচ্ছে । এখন ঈশ্বর তার সান্নিধ্যে থাকছেন না । তাই, কয়িন ভয় পেল যে, কেউ হয়ত তাকে হত্যা করবে । “সদাপ্রভু করিনের নিমিত্ত এক চিহ্ন রাখিলেন, পাছে কেহ তাহাকে পাইলে বধ করে” (আদি ৪:১৫) । এটি কি’ চিহ্ন’ ছিল? আমরা ঠিক জানি না । হতেপারে, চিহ্নটা এই ছিল যে, ঈশ্বর কয়িনকে দয়া করছেন?

ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ‘লুক্কায়িত’ কথাটির মানে কি? কিছুই না, ঠিক? কারণ, তিনি সবকিছু দেখেন । একই সময়ে, আমরা তাঁর থেকে মুখ ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারি, ঠিক কয়িনের মত । একমাত্র কোন উপায়ে আমরা, পাপী হিসেবে, এটা করা এড়াতে পারি?

বৃহস্পতিবার

এপ্রিল ১৪

মানুষ ক্রমশ আধিকতর ভ্রষ্ট হয়ে উঠল (আদি ৪:১৭-২৪)

আদি ৪:১৭-২৪ পদে কয়িন ও তার বংশধরদের বিষয়ে পড়ুন । কয়িনের অপরাধ কিভাবে অধিক গুরুতর হয়ে ওঠে এবং পৃথিবীতে পাপ কিভাবে অধিক মারাত্মক হয়ে ওঠে?

লেমক হল কয়িনের নাতি । লেমক কয়িনের মতই একজনকে হত্যা করেছিল । পরে, লেমক নিজের অপরাধকে কয়িনের অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে । আমরা যখন দুটি অপরাধের মধ্যে তুলনা করি, তখন আমরা পাপ সংঘটনের বিষয়ে বাইবেলের গুরুত্বপূর্ণ সত্য শিক্ষা করতে পারি । কয়িন তার অপরাধের বিষয়ে বলছে না । কিন্তু লেমক তার অপরাধ নিয়ে বড়াই করছে । লেমক তার পাপের বিষয়ে একটি গান রচনা করে (আদি ৪:২৩, ২৪) । কয়িন ঈশ্বরের কাছে দয়া যাচঞা করেছিল । কিন্তু লেমক ঈশ্বরের কাছে কোন দয়া চায়নি । ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, কেউ যদি কয়িনকে আঘাত করে, তবে সে সাতগুন প্রতিফল পাবে । কিন্তু লেমক বড়াই করে বলে যে, কেউ যদি তাকে আঘাত করতে পারে, তবে ঈশ্বর তাকে ৭৭ গুন প্রতিফল দিবেন (আদি ৪:২৪) ।

আসুন, আমরা কয়িন ও লেমকের মধ্যে আরও কিছু তুলনা দেখি । কয়িনের এক স্ত্রী ছিল (আদি ৪:১৭) । কিন্তু লেমক প্রথম ব্যক্তি যে – কিনা একের বেশি বিয়ে করেছিল (আদি ৪:১৯) । লেমক ও তার পাপ আমাদের দেখায় যে, কয়িনের সন্তানেরা আরও বেশি ভ্রষ্ট হয়ে ওঠে ।

কিন্তু মানুষের সকল আশা ফুরিয়ে যায়নি । “আর আদম পুনর্বার আপন স্ত্রীর পরিচয় লইলে তিনি পুত্র প্রসব করিলেন ও তাহার নাম শেখ রাখিলেন । কেননা [ তিনি কহিলেন, ] কয়িন কর্তৃক হত হেবলের পরিবর্তে ঈশ্বর আমাকে আর এক সন্তান দিলেন” (আদি ৪:২৫) ।’ শেখ’ নামটি ইব্রীয় শব্দ ‘আশিত’ থেকে এসেছে । এই ইব্রীয় শব্দটি ‘জন্মাইব’ (আদি ৩:১৫) হিসেবে লেখা যায় । সুতরাং, ‘শেথ’ নামটি আমাদেরকে হেবলের পরিবর্তে কারও’ জন্মানোর’ কথা বলে । আদি ৩:১৫ পদে ঈশ্বর যখন’ জন্মাইব’ বলেন, তিনি আমাদেরকে ভবিষ্যতের সেই কাজ দেখান যা ত্রাণকর্তা করবেন । সুতরাং, আমরা দেখি’ শেখ’ নামটি হচ্ছে একটি প্রতিজ্ঞা । এটি আমাদের দেখায় যে, ত্রাণকর্তা শেথের বংশ থেকে আসবেন (আদি ৫:৩) ।

কন আদি ৬ অধ্যায়ে, আমরা ঈশ্বরের পুত্রদের’ এবং ‘মনুষ্যদের বিষয় পাই (আদি ৬:২) ।’ ঈশ্বরের পুত্ররা’ আমাদেরকে শেথের বংশধরদের দেখায় । ঈশ্বরের পুত্রেরা’ হিসেবে তাদের নামকরণটি আমাদের দেখায় যে, ঈশ্বর তাদেরকে তাঁর প্রেম প্রদর্শনের জন্য এবং তাদেরকে তাঁর প্রজা করার জন্য মনোনয়ন করেছিলেন (আদি ৫:১, ৪) ।’ মনুষ্যদের কন্যাগণ’ নামকরণটি সেই লোকদের দেখায় যারা ঈশ্বরকে অনুসরণ করে না । পরিতাপের বিষয় হল, ‘ঈশ্বরের পুত্ররা’ ‘মনুষ্যদের কন্যাগণকে বিয়ে করে (আদি ৬:২) । এই বিবাহ আমাদের দেখায় যে, মানুষ ঈশ্বরের পথ থেকে ফিরতে শুরু করল ।

আদি ৬:১-৫ পদ পড়ুন । এই পদগুলো হচ্ছে পাপের বিরুদ্ধে এক জোরালো সতর্কবার্তা । ঈশ্বরের সহায়তায়, আমাদের জীবনের নানাবিধ পাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা যা কিছু করতে পারি, তা আমরা অবশ্যই কেন করব?

শুক্রবার

এপ্রিল ১৫

অতিরিক্ত আলোচনাঃ বাইবেল বলে যে, হনোক “ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিলেন” (আদি ৫:২২, ২৪) । এই রূপক আমাদের দেখায় যে, ঈশ্বরের সঙ্গে হলোকের একটি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত বন্ধন ছিল । হলোক প্রতিদিন ঈশ্বরের সঙ্গে সময় যাপন করতেন । হলোক ও ঈশ্বরের মধ্যকার এই বন্ধন ছিল অসাধারণ । সে – কারণে, “ঈশ্বর তাঁহাকে গ্রহণ করিলেন” (আদি ৫:২৪) । এই পদটি এ – ধারণাকে সমর্থন দিচ্ছে না যে, হনোক মারা গেলেন ও স্বর্গে গেলেন । ‘নোেহ ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিতেন’ (আদি ৬:৯), ঠিক? কিন্তু নোহ, আদম ও মথূশেলহ সহ অন্য সাধারণ মানুষের মত মরলেন । ঈলেন জি হোয়াইট হনোকের বিষয়ে লিখছেন:“ হনোক ধার্মিকতার প্রচারক হিসাবে পরিণত হলেন ও যারাই শুনতে আগ্রহী তাদের ঈশ্বরের বাণী দিতেন । যে স্থান থেকে কয়িন ঈশ্বরের সম্মুখ হতে পালিয়েছিলেন, সেই স্থানে ভাববাদী তার চোখের সামনে স্বপ্নের মাধ্যমে যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে তার বর্ণনা দিলেন । তিনি ঘোষণা করলেন,’ দেখ, প্রভু আপন অযুত অযুত পবিত্র লোকের সহিত আসিলেন, যেন সকলের বিচার করেন; আর ভক্তিহীন সকলে আপনাদের যে সকল ভক্তিবিরুদ্ধ কার্য দ্বারা ভক্তিহীনতা দেখাইয়াছে, এবং ভক্তিহীন পাপিগণ তাঁহার বিরুদ্ধে যে সকল কঠোর বাক্য কহিয়াছে, তত্পযুক্ত, তাহাদিগকে যেন ভর্ৎসনা করেন’ (যিহূদা ১৪, ১৫) ।” —পিতৃকুলপতিগণ ও ভাববাদীগণ, পৃষ্ঠ:৪৯ ।

আলোচ্য প্রশ্নাবলী:

১। কয়িন কেন তার ভাইকে হত্যা করল? হতেপারে, আপনি কাউকে খুন করেননি । কিন্তু কয়িনের হৃদয়ে যে অনুভূতি ছিল, সেই একই অনুভূতি যেন আমাদের হৃদয়ে না থাকে, সে ব্যাপারে আমরা কিভাবে সতর্ক থাকতে পারি?

২। জলপ্লাবনের আগের লোকেরা দীর্ঘায়ু ছিল (আদি ৫) । জলপ্লাবনের পরের লোকদের সঙ্গে তাদের আয়ুর তুলনা করুন । মানুষের দীর্ঘায়ু থেকে স্বল্পায়ুর এই পরিবর্তন আমরা কিভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি? আধুনিক বিজ্ঞান বলে যে, মানুষ ক্রমশ শ্রীবৃদ্ধি লাভ করছে । বাইবেলে বর্ণীত দীর্ঘায়ু থেকে স্বল্পায়ুর এই পরিবর্তন কিভাবে আমাদের দেখায় যে, বিজ্ঞানের এই আধুনিক ধারণা মিথ্যা?